চন্দ্রযান-৩ কে আজই চাঁদে পাঠাচ্ছে ভারত! চাঁদে গিয়ে কি করবে? কত টাকা খরচ? জানুন বিস্তারিত
চন্দ্রযান-৩ কে আজই চাঁদে পাঠাচ্ছে ভারত! চাঁদে গিয়ে কি করবে? কত টাকা খরচ? জানুন বিস্তারিত
সূচনা হবে আজ, এর ঠিক একমাস ১০ দিনের মাথায় ইতিহাস তৈরি করতে পারে চন্দ্রযান-৩। শুক্রবার দুপুর ২.৩৫ মিনিটে সেই ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদকে লক্ষ্য করে উড়ে যাবে বহু প্রতীক্ষিত চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3)। চার বছর আগের ব্যর্থতা মুছে ফেলে এবার চাঁদের মাটিতে ল্যান্ডার বিক্রমের সফট ল্যান্ডিংয়ের বিষয়ে প্রবল আশাবাদী ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)।
২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ উড়ে গিয়েছিল চাঁদের উদ্দেশ্যে। লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর উপগ্রহের বুকে নেমে তাকে বুঝে নেওয়া। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে সফটওয়্যারের সামান্য গোলযোগের কারণে আংশিক সফল হয় সেই অভিযান।
ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের মাটিতে নামতে না পারলেও অরবিটার অবশ্য পূর্বপরিকল্পনা মতোই চাঁদের চারিদিক প্রদক্ষিণ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠায় ইসরোকে। তা বিশ্লেষণ করে ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, চাঁদের বুকে অবশ্যই জল আছে। তবে তা শক্ত বরফের আকারে অবস্থান করছে।
আজকের বিষয়ঃ-
চন্দ্রযান-৩ এর জন্য সরকারের খরচ (Chandrayaan-3 Expense)
Chandrayaan-3 সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ন তথ্য
চন্দ্রযান-৩ চাঁদে গিয়ে কি করবে?
চন্দ্রযান-৩ চাঁদে কবে পৌছবে?
চন্দ্রযান-৩ এর জন্য সরকারের খরচ (Chandrayaan-3 Expense)
গত চার বছরে নিঃশব্দে চন্দ্রযান-৩ অভিযানের জন্য তৈরি হয়েছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। গবেষণার ইতিহাসে বোধহয় এই প্রথম এত কম খরচে চাঁদে অভিযান করছে কোনও দেশ। 'মাত্র' ৬১৫ কোটি টাকায় চন্দ্রযান-৩ উড়ে যাচ্ছে চাঁদের উদ্দেশ্যে।
'মাত্র' বলার কারণ মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এটা কোনও খরচই নয়। আজ থেকে ৫৪ বছর আগে ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো-১১ (Appolo 11) প্রথম চাঁদের মাটিতে নেমেছিল। সেই সময়ই এই অভিযানের জন্য আমেরিকার খরচ হয়েছিল ভারতীয় মুদ্রায় ২,৮৭১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা!
এত দীর্ঘ সময় পর সেখানে ভারতের মাত্র ৬১৫ কোটি টাকা খরচ বলতে গেলে কিছুই নয়। আর ঠিক এখানেই ইসরোর সাফল্য দেখছে দেশ-বিদেশের নামি দামি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, কীভাবে বাজেট ফ্রেন্ডলি মহাকাশ গবেষণা করা যায় তা দেখিয়ে দিচ্ছে ভারত।
Chandrayaan-3 সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ন তথ্য
চন্দ্রযান-৩ চাঁদে গিয়ে কি করবে?
এবারের চন্দ্রাভিযানে ল্যান্ডার বিক্রমের মধ্যে থাকছে প্রজ্ঞান নামের রোভার। অভিযানের প্রতিটি পদক্ষেপ সঠিকভাবে চললে এটি চাঁদের বুকে নেমে ১২ দিন ধরে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সেখানকার মাটি, জল, বাতাস বিশ্লেষণ করে তথ্য পাঠাবে ইসরোকে। যা শুধু ভারতের নয়, গোটা পৃথিবীর গবেষণার কাজে অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠবে।LVM3 M4 শ্রেণির 'ফ্যাট বয়' নামক রকেট ল্যান্ডার বিক্রমকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। গোটাটার ওজন যাকে মহাকাশ বিজ্ঞানের পরিভাষায় 'পে-লোড' বলে, তা দাঁড়াচ্ছে প্রায় চার হাজার কেজি। এরমধ্যে ল্যান্ডার বিক্রমের ওজন ১,৭৫২ কেজি। মূল গবেষণা করবে যে রোভার সেই প্রজ্ঞানের ওজন মাত্র ২৬ কেজি।
চন্দ্রযান-৩ চাঁদে কবে পৌছবে?
সব ঠিকঠাক থাকলে ২৩ অগস্ট চাঁদের বুকে পা রাখবে বিক্রম। আর তাহলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চিনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে সফলভাবে চাঁদে পদার্পণ করবে ভারত।
উল্লেখ্য চলতি বছরই ইজরায়েল ও জাপানের দুটি বিদেশি সংস্থা চাঁদে অভিযান চালাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। সেখানে ভারতের প্লাস পয়েন্ট হল এর আগেই তাদের একটি অর্ধ সফল চন্দ্রাভিযানের অভিজ্ঞতা আছে। গোটা ভারতের আশা চন্দ্রাভিযান-৩ বিপুল সফল হবে।
বিজ্ঞানী মহলের আশা, এই একটা সফল অভিযান গোটা ভারতের বিজ্ঞান গবেষণার মানচিত্র বদলে দিতে পারে। আগামী প্রজন্ম বিপুলভাবে মহাকাশ গবেষণায় উৎসাহী হয়ে উঠতে পারে এই একটি ঘটনার উপর ভিত্তি করে।



Post a Comment